জীবন বৃত্তান্ত

সুদীর্ঘ পাঁচ দশক ধ্রুপদী সঙ্গীতচর্চায় অতিক্রম করা শিল্পী শাহীন সামাদ’র সংগীতে হাতেখড়ি সাত বছর বয়সে। বাবা-মা’র অনুপ্রেরণায় অভিষিক্ত শাহীন সেই ১৯৬৬ সাল থেকে আজ অবধি নজরুল’র গানকে বাংলাদেশের সংগীত পিপাসুদের কাছে সুষ্ঠভাবে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন।

শিল্পী’র ১২ বছর বয়সে নিজ বাসভবনে উস্তাদ ফজলুল হক, উস্তাদ ফুল মোহাম্মদ প্রমুখ বিশ্ববিখ্যাত পন্ডিতদের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানট এ ভর্তি হয়ে উপমহাদেশের বরেণ্য সংগীতজ্ঞ উস্তাদ শেখ লুৎফর রহমান, সোহরাব হোসেন, অঞ্জলি রায় প্রমুখ উস্তাদজি দের নিকট নজরুল সংগীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কলকাতা থেকে আগত বিখ্যাত সরতবাদক উস্তাদ মোহাম্মদ সগীর উদ্দিন এর নিকট ০৩ বছর শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নিয়েছিলেন। এছাড়া লন্ডনে অবস্থানকালীন বরেণ্য সেতারবাদক উস্তাদ ইমরাত খান এর কাছে ০৩ বছর শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নিয়েছিলেন। পাশাপাশি শাহীন নিজ উদ্যোগে পন্ডিত মাশকুর আলী খান এর কাছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এ ০৬ বছর শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। শিল্পী লন্ডন থেকে ফিরে আসার পর নিজ বাসভবনে ০১ বছর উস্তাদ সুধীন দাস এর নিকট নজরুল সংগীতে তালিম নিয়েছিলেন। রবীন্দ্র সংগীতে সানজিদা খাতুন, ওয়াহিদুল হুক ও শাস্ত্রীয় সংগীতে আজাদ রহমান প্রমুখ বরেণ্য উস্তাদজী দের কাছ থেকে তালিম নিয়েছিলেন ।

ছায়ানট সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ০৮ বছর কোর্স সমাপ্তির পর নজরুল সংগীতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম ও শাস্ত্রীয় সংগীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছিলেন এই শিল্পী। সুদীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে অদ্যাবধি ছায়ানটের সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি ছায়ানটে নজরুল সংগীতের জ্যেষ্ঠ শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

শিল্পী জীবনের শুরু থেকেই নিজস্ব গায়কী ঢং সৃষ্টিতে সক্ষম শাহীন শুধু নজরুল সংগীত নয়, পুরোনো দিনের বাংলা গান ও আধুনিক বাংলা গান তথা পঞ্চকবির গানও গেয়ে থাকেন। কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি সংগীতে সফলতা দেখিয়েছেন। কলেজে পরপর দুই বছর সাংস্কৃতিক সপ্তাহে নজরুল, রবীন্দ্র সংগীত ও আধুনিক গানে প্রথম স্থান অধিকারী শাহীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন নাহার হলের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা ছিলেন।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মাস মার্চে চতুর্দিকে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠার পরপর বঙ্গবন্ধু’র ০৭ মার্চের ডাকে তরুণ-যুবক সহ দলে দলে দেশ মাতৃকার রক্ষার্থে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এই পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পী সমাজও বসে ছিল না। তারাও যার যার অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে দেশ রক্ষার আন্দোলনে যোগ দিলো। শিল্পীদের কিছু অংশ যুদ্ধের সম্মুখ সমরে অংশ নিল আর একটি বিরাট অংশ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারত চলে গেল। দেশ রক্ষার দায়িত্ববোধই শাহীন কে স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেয়ার ব্যাপারে উজ্জীবিত করেছিল। ৭১ এর মে মাসে ঢাকার নিজ বাসা থেকে রাতের আঁধারে মা’র বাধা উপেক্ষা করে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ব্লেক-আউট এর রাতে এক কাপড়ে বেরিয়ে পড়েন সীমান্ত পাড়ি দেবার উদ্দেশ্যে। চান্দিনা হয়ে কুমিল্লার পথে বাস রওয়ানা হলে, এক জায়গায় পাক আর্মি বাস আটকে সবাইকে নামিয়ে ব্যাগ পত্র তল্লাশি করার নামে সবকিছ তছনছ করে দেয়। পথে এই ধরণের বাধা পার হয়ে অবশেষে পৌঁছান আগরতলায়। সেখানে ০৩ দিন অবস্থানের পর কলকাতার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পীদের জীবনযাত্রা ছিল কঠিন নিয়মকানুনের মধ্যে। রিহার্সাল ছিল নিয়মিত। রবীন্দ্র সেন্টার, কলামন্দির ইত্যাদি সেন্টারে নিয়মিত গানের চর্চা, রিহার্সাল হতো। সকালের নাস্তা ছিল সময়মতো ও কঠিন পরিমিত । অনেকসময় মাত্র একটা রুটি ও ভাজি খেয়েই কাটিয়ে দিতে হতো পুরো দিন। সেই সন্ধ্যায় বা রাত্রিতে সবাই পেতো রাতের খাবার। কিন্তু একটা বিষয়, এই পরিমিত খাবারের মধ্যেও ছিল অবারিত আনন্দ। ছিল প্রশান্তি, ছিল শক্ত মনোবল । কারণ এই কষ্ট দেশের জন্য, দেশের স্বাধীনতার জন্য। কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য ইস্যুতেও ছিল ভীষণ পরিমিতশীলতা। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী দলের ছেলে মেয়েরা আলাদা আলাদা থাকতো। প্রত্যেকের শারীরিক ওজন অনেক কম ছিল। হালকা শরীর হলেও মনে শক্তি ছিল। সহশিল্পী বিপুল কান্তি সিঙ্গারার জন্য, খাবারের জন্য কান্নাকাটি করতো কারণ ১৬ বছরের কিশোর বিপুল কে মুক্তিযোদ্ধের সব শক্তিশালী ও উদ্দীপনামূলক গানগুলো গাইতে হতো।

পঞ্চকবি, উদ্দীপকমূলক, জাগরণমূলক, গণসংগীত, দেশাত্মবোধক, রবীন্দ্র সংগীত, নজরুল সংগীত ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের গান পশ্চিমবঙ্গের ক্যাম্পে অনুশীলন হতো। এ ছাড়াও পল্লীগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া ও আধুনিক গান তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর কয়েকটি নিম্নে বর্ণিত হল:

নজরুল সংগীত: “কারার ঐ লৌহ কপাট”, “শিকল পড়া ছল”, “একই অপরূপ রূপে মা তোমায়”, একি খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি” প্রমুখ।

গণসংগীত: “জনতার সংগ্রাম চলবে”, “ব্যরিকেড বেয়োনেট বেড়াজাল” “আমার প্রতিবাদের ভাষা” ইত্যাদি।

রবীন্দ্র সংগীত: “যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক”, “দেশে দেশে ভ্রমি তব দুঃখ গান গাহিয়ে”, “একবার তোরা মা বলিয়া ডাক”, “নাই নাই ভয় হবে হবে জয়” প্রমুখ।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: “ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা”।

কলকাতায় প্রতিদিন সকালে তাদের গানের কঠিন অনুশীলন হতো। পশ্চিমবঙ্গের সব মুক্তিযোদ্ধাদের ও শরণার্থীদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে শিল্পী তার দল সহ ট্রাকে চড়ে বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থী শিবিরে/ক্যাম্পে গিয়ে গিয়ে তাদের উপরোক্ত গানগুলো শোনাতেন । গেয়েছিলেন মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল জাগ্রত করার জন্য, উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত রাখার জন্য এবং দেশ নিশ্চিত ভাবে স্বাধীন হবেই – এই চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যাতে মনোবল সর্বদা অটুট থাকে । একই সাথে জনগণের ভিতরে দেশপ্রেম জাগ্রত করার জন্য। গানের কথা ও সুর ভীষণভাবে সমৃদ্ধ ছিল। এক পর্যায়ে গঠন করেছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা। পটুয়া কামরুল শিল্পীদের যে ব্রতচারী শিখিয়েছিলেন, সেগুলোও শিল্পীরা গেয়েছিলেন এবং সার্টিফিকেট অর্জন করেছিলেন। শিল্পী পঙ্কজ সাহা তার বাসায় সব মুক্তিযোদ্ধা শিল্পীদের আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন।

শাহীন তার টিমকে সাথে নিয়ে কলকাতার অধিকাংশ জায়গাতেই গান করেছিলেন যেমন, আসানসোল, বড়মপুর, কল্যাণী, দিল্লি, জলপাইগুড়ি, লেনিন সরণি – সব জায়গাতেই। মোটামুটি বলা যায় পুরো পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই গান গেয়েছিলেন । যখন পূজা শুরু হলো, তখন তারা দিল্লিতে টানা এক মাস অবস্থান করেছিলেন। বিভিন্ন মঞ্চে মঞ্চে গান গেয়ে টাকা সংগ্রহ করেছিলেন, সেই টাকা দিয়ে ট্রাকে করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থী ক্যাম্পে ক্যাম্পে চাল, ডাল, চিনি, তেল, নুন, কাপড় চোপড় সহ সকল প্রকার নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছাবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শাহীন যেহেতু এক কাপড়েই বাসা থেকে বের হয়েছিল, তাই তার আর কোনো কাপড় সংগ্রহে ছিল না। তার ননদ এর কাপড় পড়ে দিনাতিপাত করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিলো তাদের থাকা-খাওয়া । আকাশবাণীতে ৬ টা গান গেয়ে শিল্পী যে টাকা পেয়েছিলেন, তা দিয়ে শাড়ি কেনার জন্য শাহীন গৌরিহাট গিয়েছিলেন। পছন্দ হয়েছিল, দাম চেয়েছিলো ২০ টাকা। শাহীন বলেছিলেন, হাতে এতো টাকা নেই, আমি জয়বাংলার লোক। দশ টাকা দিতে পারবে বলে সে জানিয়েছিলেন। দোকানদার জানালো, ১২ টাকার নিচে সে দেবে না। পরে ১০ টাকা দিয়েই শিল্পী শাড়িটা কিনে নিয়েছিলেন।

সেখানে শাহীনের বড় আপার বাসায় আসাদুজ্জামান নূর, দোলা, আলী জাকের, তারেক আলী, ওয়াহিদুল হক, সানজিদা খাতুন, সৈয়দ হাসান ইমাম, মুস্তাফা মনোয়ার, তারেক আলী, লতা চৌধুরী, বিপুল ভট্টাচার্য, শারমিন মুর্শেদ, নায়লা খান, ডালিয়া নওশীন, মাহমুদুর রহমান বেনু, দেবু চৌধুরী, স্বপন চৌধুরী সহআরও অনেক প্রথিতযশা শিল্পী মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিয়েছিলেন। বড় আপা সবাইকে নিজ হাতে চিড়া মুড়ি, ভাত ডাল খাওয়াতেন । বড় আপার বর ফরিদপুর এর এম, পি ছিলেন । বড় আপা তার নিজ স্বর্ণালংকারের বাক্স সাথে নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলো বিক্রি করে সমুদয় খরচ চালাতেন ।

দেশ যেদিন স্বাধীন হয়েছিল, সেদিন ঘরের বাহিরে হই-হল্লা শুনে বাহিরে বের হয়ে শাহীন শুনলেন, কুখ্যাত নিয়াজি আত্মসমর্পন করেছে এবং দেশ স্বাধীন হয়েছে। তখনকার মনের অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। সাথে সাথে শাহীন অন্যদের সাথে কলকাতা বাংলাদেশ মিশন এ গিয়ে স্বাধীন দেশের পতাকা প্রথম উড়িয়েছিলেন । একই সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শহীদ ভাই যিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ডিজি ছিলেন, তিনি কয়েকটি গান লিখেছিলেন ও সুর দিয়েছিলেন সুজয় শ্যাম যা শাহীন অন্য শিল্পীদের সাথে গেয়েছিলেন। গান কয়েকটি হল: “বিজয় নিশান উড়ছে ওই”, “তীর হারা ওই ঢেউয়ের”, “পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে” এবং আরও কিছু ।

যখন দেশ স্বাধীন হবার খবর শিল্পী প্রথম পেলো, তখনকার অনুভূতি কাউকেই বুঝিয়ে বলার মতো নয়। সন্তান সদ্য ভূমিষ্ট হলে, মায়ের যেমনটি আনন্দের অনুভূতি হয়, ঠিক তেমনটি বা তার চাইতেও অনেক অনেক বেশি আনন্দের অনুভূতি সেদিন পেয়েছিলো। দেশ স্বাধীনের অল্প কয়েকদিন পরেই তাঁরা কয়েকজন স্বাধীন দেশে ফেরত এলো। এসেই সোজা ঢাকা চলে এলো।

দেশ স্বাধীন হবার পর যখন শিল্পীদের টিম যশোরের মুক্তাঞ্চলে প্রবেশ করলো ও স্বাধীন দেশের মাটি প্রথম হাতে ছুঁয়ে দেখলো, তখনকার অনুভূতি শিল্পীরা মুখের ভাষায় বোঝাতে পারবেন না। মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স দেখে ও স্বাধীন দেশের মাটি প্রথম নিজ হাতে ছুঁয়ে প্রত্যেকের চোখে পানি চলে এসেছিলো। কিশোর বয়সী মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৮ এর মধ্যে। কিশোর মুক্তিযোদ্ধারা শিল্পীদের মুক্তাঞ্চলের বেশি ভেতরে যেতে বারণ করেছিল কারণ ওই সমস্ত জায়গায় মাটির নিচের বিভিন্ন অংশে মাইন্ পোতা ছিল। শিল্পীরা তাদের সকল গান কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের শুনিয়েছিলেন। শুনে মুক্তিযোদ্ধাদের চোখে মুখে প্রচন্ড শক্তির সঞ্চার হয়েছিল। চিৎকার করে তারা জয় বাংলা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছিলো। মেজর গিয়াস পরবর্তীতে যিনি বীর বিক্রম খেতাব পেয়েছিলেন, শিল্পীদের জানিয়েছিলেন যে শিল্পীদের টিম সেখান থেকে চলে আসার পর সেখানটায় যে অপারেশন তারা চালিয়েছিল, সেটাতে তারা জয়ী হয়েছিল। সফলতার এটি আর একটি দৃষ্টান্ত।

শাহীন ০১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ তারিখে ঢাকায় ফিরেছিলেন । ফিরেই তার মা’র নিকট চলে গেলেন। তাকে দেখে মা’র তো ভূত দেখার মতো অবস্থা। মা’র বিশ্বাসই হচ্ছিলো না যে তার মেয়ে বেঁচে আছে। যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে আসার পর অজিত রায়, সুজেয় শ্যাম ও সমর দাস – এই গুণী শিল্পীদের সাথে অজস্র গান রেকর্ড করেছিলেন। দেশে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রোগ্রামে এবং রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেল গুলোর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন এবং এখনো নিয়মিতভাবে নিচ্ছেন।

আসার ২/১ বছর পরেই দেশের বাহিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণে বিদেশে উড়াল দিলো শিল্পী। তারপর থেকে এ অবধি অজস্ত্র বার প্রবাসী বাংলাদেশিদের আমন্ত্রণে ও বিভিন্ন দেশের (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স ইত্যাদি) দূতাবাসের রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ সফর করেছে। স্বামীর কর্মসূত্রে একটা বড় সময় লন্ডনে অবস্থান করতে হয়েছিল। দেশ স্বাধীনের পর দেশে ফেরত আসার পর থেকে এঅবধি শাহীন বিটিভি, বেতার সহ বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করে আসছে। অজস্ত্রবার রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের অনুষ্ঠানে শিল্পী গান গেয়ে আসছে। অগণিত পুরস্কার, সম্মাননা পেয়েছে – সংগীতে ও স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য।

দেশে ফিরে আসার পর সর্বপ্রথম ১৯৭৩ এ প্রায় ৭০ জনের মতো সঙ্গী নিয়ে শাহীন যুব সম্মেলন এ রাষ্ট্রীয় ভাবে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে জার্মানি যাত্রা করলেন। বরেণ্য চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ শিল্পীদের সাথে গেলেন। শাহীন ১৯৭৪ এ লন্ডন এ গেলেন। এই দীর্ঘ সময় অবস্থানকলে নিয়মিতভাবে নজরুল জয়ন্তী, রবীন্দ্র জয়ন্তী, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইত্যাদি জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন ও গান পরিবেশন করেছিলেন। শিল্পী শাকিল আনাম সহ প্যারিস সফরকালে শাহীন আইফেল টাওয়ার এর নিচে নির্মিত শহীদ মিনার এ ফুল অর্পণ করে সন্ধ্যায় সংগীত অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেছিলেন। এছাড়া ব্যাংকক, আবুধাবি, ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য সহ বিশ্বের অনেক দেশ শাহীন সরকারি ভাবে ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভ্রমণ করেছেন।

নজরুল ইনস্টিটিউট আজীবন সম্মাননা, ন্যাশনাল প্রেসক্লাব অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদশ হাই কমিশন (কলকাতা) অ্যাওয়ার্ড, UNHCR বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ পুরস্কার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পুরস্কার, আইএফআইসি ব্যাংক – চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা, নর্থ আমেরিকা নজরুল কনফারেন্স অ্যাওয়ার্ড, উত্তর আমেরিকা নজরুল সম্মেলন সম্মাননা, বেঙ্গল সং-কনটেস্ট সম্মাননা লন্ডন, সনাতন ধর্মসভা সম্মাননা ভারত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশন সম্মাননা, আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশেষ পুরস্কার, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা, বিশ্ব সংগীত কেন্দ্র ইটালী অ্যাওয়ার্ড, মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমী পুরস্কার সহ অজস্র পুরস্কার প্রাপ্তির রেকর্ড শিল্পীর ঝুলিতে রয়েছে। ছায়ানট সংস্কৃতি অঙ্গন, নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, সেতুবন্ধ, নজরুল ইনস্টিটিউট সহ অজস্র সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে শিল্পী জড়িত আছেন। পুরস্কার ও সম্মাননা’র বিস্তারিত তালিকা পৃথক শীটে সংযুক হলো।

টিন এজ বয়সে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রাম শিল্পী সংস্থার সদস্য হিসেবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগদান, শরণার্থী শিবির ও মুক্তাঙ্গনে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করা এবং সেই স্মরণীয় মুহূর্তগুলোকে আমেরিকান ফিল্মমেকার লেয়ার লেভিন – এর ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে তারেক মাসুদ নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের ছবি “মুক্তির গান” – এ সংযুক্তি তার জীবনের অমূল্য ও শ্রেষ্ঠ অর্জন।

লেয়ার লেভিন নামক একজন ক্যামেরাম্যান যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থী ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলতেন। এক সময়ে শিল্পীদের শিবিরে এসে তাদের সফরে নিয়মিত যোগদান করা শুরু করলেন। ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ধরণের ছবি তোলা শুরু করলেন। পরবর্তীতে তারক মাসুদ ক্যাথেরিন কে আমেরিকা তে বিয়ে করার পর ইয়েলো পেজ ঘেটে তারেক এর খোঁজ বের করে তার নিকট যাবার পর দেখলো, যুদ্ধের সময়কার তোলা দুর্লভ ছবিগুলোতে রীতিমতো ফাঙ্কাশ পড়ে গেছে। পরে তারা দুজনে মিলে অনেক পরিশ্রম করে ফাংকশগুলো পরিষ্কার করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ডকুমেন্টরি এক ঘন্টা ৪৫ মিনিটের এক দুর্লভ ইতিহাস – “মুক্তির গান” – ভিডিও তৈরী করেছিলেন ।

তারেক মাসুদ এর তৈরী করা মুক্তির গান-ই একমাত্র ভিডিও ডকুমেন্ট যা দেখে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম যদি কোনো সংকটে পড়ে, তারা যদি কোনো যুদ্ধ-সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়, তখন এই ডকুমেন্টরীই তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে। এছাড়া এই ধরণের আর কোনো ডকুমেন্ট দ্বিতীয়টি নেই। মুক্তির গান পাবলিক লাইব্রেরি অডিটোরিয়াম, ওপেন স্পেস সহ বিভিন্ন জায়গায় যখন রিলিজ হয়, তখন সাব জায়গায়তেই দর্শক জনগণ মুক্তিযোদ্ধা শিল্পীদের নিকট থেকে নিজ চোখে দেখতে চেয়েছিলো। ছবি প্রদর্শন শেষে যখন পাবলিক লাইব্রেরি স্টেজে শিল্পীরা দাঁড়িয়েছিলেন, তখন দর্শকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল স্টেজে শিল্পীদের হাত, শরীর, চোখ নিজ হাতে ছুঁয়ে দেখার জন্য, আদরে চুমু দেয়ার জন্য। এ এক অন্য অনুভূতি। অনেকে জিজ্ঞেস করেছে, দেশের জন্য শাহীনের যুদ্ধ করার বিষয়টি তারা এর আগে জানতেন না। উত্তরে শাহীন তাদের জানিয়েছিলেন, আত্মপ্রচারের জন্য তিনি যুদ্ধ করেননি বরং দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ করেছেন। ১৯৯৫ তে মুক্তির গান ওপেনলি রিলিজ হয়েছিল। তখন শাহীনের মা আর ইহজগতে ছিলেন না। শাহীনের বিশ্বাস, ওপর থেকে তার মা নিশ্চয়ই তার এই ছবিটা দেখছেন।

শিল্পীর সংগ্রহে মুক্তির গান ডকুমেন্টরিতে ব্যবহার করা একটি হারমোনিয়াম আছে যা তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সংরক্ষনের জন্য দান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ও কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যাতে করে দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস খানিকটা হলেও জানতে পারে।

শিল্পী শাহীন সামাদ শিল্পকলা সংগীত -এ গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার “একুশে পদক”- এ ভূষিত হন যা শাহীন এর জীবনে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় ।

বঙ্গবন্ধু’র ১০২ তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল দুবাই ও উত্তর আমিরাত এবং বাংলাদেশ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশ সরকারি দলের সদস্য হিসেবে দুবাই এক্সপো ২০২০ এর মিলেনিয়াম এম্ফিথিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশের পঞ্চাশতম সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকারি সফরে দুবাই-এ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন।বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শিল্পী অংশ নেয়। বাংলাদেশের স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ বইয়ের প্রচ্ছদে শাহীন সামাদ সহ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ৪৮জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শব্দসৈনিক, বরেণ্য ও কিংবদন্তি শিল্পীদের নাম এবং ছবি ছাপা হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে স্মার্ট কার্ডে তার নামের আগে “বীর মুক্তিযোদ্ধা” উপাধি পেয়েছেন তার এই অর্জন তিনি দেশের জনগনের জন্য উৎসর্গ করেছেন।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে শিল্পীর সাক্ষাৎকার ও অনুষ্ঠানের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো নিয়মিত হচ্ছে। বাংলাদেশী প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে শিল্পীর বিভিন্ন সময়ে অনেক সাক্ষাৎকার/ ইন্টারভিউ প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। ক্যালিফর্নিয়া’র বার্কলি থেকে বিখ্যাত পত্রিকা ইন্ডিয়া-ওয়েস্ট ১৯৮৯ সালে শিল্পীর অনুষ্ঠানের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শিল্পী বিবিসি টিভি’র ইন্টারভিউতে কয়েকবার অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের একটি বিখ্যাত পত্রিকা ১৯৮৭ সালে তার একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। তিনি এখনো নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় রেডিও ও টেলিভশন এবং বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেলে গান পরিবেশন করছেন।

বাবা শামসুল হুদা ও মা শাসুন্নাহার রহিমা খাতুন’র কোলজুড়ে শিল্পী শাহীন সামাদের জন্ম নানাবাড়ি কুষ্টিয়া’তে ২৭ ডিসেম্বর ১৯৫২ সালে। ৩ ভাই, ৩ বোনের শাহীন চতুর্থ। তাঁর নানা খান বাহাদুর খবিরউদ্দিন আহমেদ ছিলেন স্কুল ইন্সপেক্টর। শাহীনের পরিবার একটা দীর্ঘ সময় ভারতের জলপাইগুড়ি’র নবাব বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। মাত্র ৫ বছর বয়সে হোম টিউটর গীতা’দির কাছে তাঁর ও অন্য দুই বোনের লেখাপড়া’র হাতেখড়ি। ছোটবেলায় শাহীন ছিল খুব চঞ্চল। যে কারণে মা-বাবা সবসময় টেনশনে থাকতেন। নবাব মোশাররফ হোসাইন ছিলেন শাহীনের দাদি’র এবং আপন ভাই। তাঁর প্রথম স্কুল ছিল “শিশু নিকেতন”। মা-বাবা বরাবরই তাঁদের সন্তানদের গুনাগুন বিকশিত হওয়ার ব্যাপারে মনোনিবেশ করতেন। চা বাগানের ম্যানেজার ছিলেন। শাহীনের বাবা রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে দর্শন বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন।

শাহীন এর প্রয়াত স্বামীর নাম মো: হাবিবুস সামাদ (রঞ্জু)। তিনি তার জীবনের পুরো সময়টাই নিজেকে অত্যান্ত উচ্ছপদস্ত ও সম্ভ্রান্ত পেশায় নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি একজন পুরোদস্তুর পেশাদার সিনিয়র চার্টার্ড একাউন্টেন্ট ছিলেন। দেশের একাউটেন্সি সেক্টরে উনি বৈপ্লবিক উন্নয়ন এনেছিলেন। ন্যাশনাল হাউসিং এন্ড ফিনান্স লিমিটেড এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অব বাংলাদেশ লিমিটেড এ ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর, BCCI ব্যাংকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে দীর্ঘ ৩০ বছর সহ প্রথিতযশা অনেক দেশি-বিদেশী কর্পোরেট সেক্টরের সাথে নিজেকে নিয়োজিত রেখে এক উচ্চমানের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার জীবন পার করেছিলেন। তিনি একজন ডাকসাইটে গলফ খেলোয়াড় ছিলেন। পেশাগত ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, লন্ডন, সাউথ আফ্রিকা সহ বিশ্বের অনেক দেশ ভ্রমণ করেছিলেন।

পারিবারিক জীবনে রঞ্জু-শাহীন দম্পতি কে একটি সুখী দম্পতির রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই দম্পতির দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে – নাহিন আলিম টুম্পা ও উজমা সামাদ । বড় মেয়ে টুম্পা স্বামী ও ০২ সন্তান নিয়ে আমেরিকা প্রবাসী। ছোট মেয়ে উজমা ০১ সন্তান ও ব্যবসায়ী স্বামী নাভিদ রশিদ কে নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছে। উজমা নৃত্যগুরু মুনমুন আহমেদ এর তত্ত্বাবধানে ০৪ বছর নৃত্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। দুই মেয়েই তাদের মা’র কাছ থেকেই গানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে তারা মাঝে মাঝেই গান গেয়ে থাকেন।

কি গুনাগুন নেই শাহীন এর মাঝে। সে একাধারে একজন মমতাময়ী মা, প্রিয়তমা স্ত্রী, কেয়ারিং গৃহবধূ, আদরের নানী, দায়িত্ববান বোন, দক্ষ শিক্ষক ও সচেতন সমাজকর্মী। শাহীন তার এই বর্ণাঢ্য ও দীর্ঘ পথচলায়, গানের চর্চা ছাড়াও মডেলিং ও নাটকেও অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে নাটক – “বোনের পাপিয়া” (চ্যানেল আই), “মাকড়শা” (বিটিভি) উল্লেখযোগ্য।

১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামে দেশ স্বাধীনের ব্রত নিয়ে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে এই দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের উজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা এই শিল্পী তার বাকি জীবনটা সংগীত পিপাসুদের জন্য উৎসর্গ করতে চান।

প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য পুরস্কার / সম্মাননা / পদক ইত্যাদির বিবরণঃ
ক্রমিক নং পুরস্কার/সম্মাননা/পদকের নাম ও প্রাপ্তির বৎসর পুরস্কার/সম্মাননা/পদক যে কাজের জন্য পাইয়াছেন
১. একুশে পদক – ২০১৬ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২. জাতিসংঘ শরণার্থী হাইকমিশনার, জেনেভা’র পক্ষে বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননাপত্র দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩. নজরুল ইনস্টিটিউট আজীবন সম্মাননা – ২০০৯ নজরুল সংগীত ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪. নজরুল ইনস্টিটিউট আজীবন সম্মাননা – ২০১৪ নজরুল সংগীত ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৫. নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ পুরস্কার ২০১৮ নজরুল সংগীত পরিবেশন ও তার প্রচার/প্রসারে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৬. ন্যাশনাল প্রেসক্লাব অ্যাওয়ার্ড – ২০০০ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৭. ট্যাক্স কার্ড সম্মাননাপত্র ২০১৫-২০১৬ শিল্পী (গায়ক/গায়িকা শ্রেণীতে ৩য় সর্বোচ্চ আয়কর প্রদানকারীর স্বীকৃতিস্বরূপ)
৮. বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পুরস্কার – ২০০৯ একজন সফল নারী হিসেবে দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও সংগীত গবেষণা, প্রচার ও প্রসারে অভাবনীয় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ
৯. বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরী পদক – ২০০২ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
১০. বাংলাদেশডেপুটি হাইকমিশন (কলকাতা) অ্যাওয়ার্ড – ১৯৯৯ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
১১. আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্র অ্যাওয়ার্ড – ২০১২ নজরুল সংগীত ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
১২. আইএফআইসি ব্যাংক – চ্যানেল আই আজীবন সম্মাননা ২০১৭ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
১৩. নবম নর্থ আমেরিকা নজরুল কনফারেন্স অ্যাওয়ার্ড – ২০০৪ নজরুল সংগীত ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
১৪. উত্তর আমেরিকা নজরুল সম্মেলন সম্মাননা ২০০২ নজরুল সংগীত ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
১৫. বেঙ্গল সং-কনটেস্ট সম্মাননা, লন্ডন, ১৯৮৮ সংগীত প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ
১৬. সনাতন ধর্মসভা সম্মাননা, ভারত ১৯৯৫ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
১৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দর্শন বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশন সম্মাননা দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
১৮. ঐক্য-চ্যানেল আই মিউজিক এওয়ার্ড-২০২১ `স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের গান’ – বিশেষ সম্মাননা ২০২২
১৯. অফিসার্স কল্যাণ সমিতি সম্মাননা ১৯৯৫ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২০. বাংলাদেশ মানবধিকার ফাউন্ডেশন পুরস্কার ১৯৯৮ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২১. শ্যামলী রোটারি ক্লাব পুরস্কার ১৯৯৭ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২২. দিলীপ কুমার রায় শতবর্ষ পুরস্কার ১৯৯৭ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২৩. আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশেষ পুরস্কার ২০২২ দেশের উন্নয়নে নারী হিসেবে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২৪. শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি বিজয় দিবস পুরস্কার ২০২২ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২৫. শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি সম্মাননা ২০১৯ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২৬. রানার গ্রুপ বিজয় দিবস পুরস্কার ২০২২ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২৭. ঋষিজ বিজয় দিবস পুরস্কার ২০২২ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২৮. জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ২০২২ স্বাধীনতার ৫১ বছর উপলক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
২৯. বিশ্ব সংগীত কেন্দ্র, ইটালী অ্যাওয়ার্ড ২০২২ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩০. বৈশাখী টিভি নারী সম্মাননা ২০১৮ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে ও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩১. মহিলা বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা ২০২২, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী হিসেবে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩২. নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি কৃতজ্ঞতা স্মারক ২০১৭ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন রণাঙ্গন ও মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে সাংস্কৃতিক দল  নিয়ে দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত ও উজ্জীবিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ
৩৩. শেকড় সম্মাননা স্মারক ও সংবর্ধনা ২০২১, যশোর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩৪. অনলাইন লিটারেচার গ্রুপস ইউনিটি আন্তর্জাতিক গুণীজন অ্যাওয়ার্ড ২০২০ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩৫. বাংলা একাডেমী শুভেচ্ছা স্মারক ২০২১ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩৬. সেতুবন্ধ সম্মাননা ১৯৯৬ ও ২০০১ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩৭. আমরা সূর্যমুখী সম্মাননা ২০০০ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩৮. সুরাকাশ শিল্পীগোষ্ঠী সম্মাননা ১৯৯৯ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৩৯. পৌষমেলা সম্মাননা ২০০০ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪০. রোটারি ক্লাব লালবাগফোর্ট সম্মাননা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪১. বাঙালির মঞ্চ সম্মাননা শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪২. লিজা ললিতকলা একাডেমী সম্মাননা শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪৩. আজিমপুর গার্লস  হাই স্কুল সম্মাননা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪৪. বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ সম্মাননা ২০১৬ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪৫. ১৩তম উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন সম্মাননা ২০২৩ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪৬. রেওয়াজ পারফরমিং আর্টস সম্মাননা ২০২৩ শিল্পকলা (সংগীত) ক্ষেত্রে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ  অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪৭. ফেসবুক ফ্রেন্ডস ফরএভার সম্মাননা ২০২৩ বাংলা একাডেমী নজরুল পুরস্কার ২০২৩ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ
৪৮. বাংলা একাডেমী নজরুল পুরস্কার ২০২৩ নজরুল সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য
৪৯. বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র পুরস্কার ২০২৩ নজরুল সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য
৫০. আরোহী সংগীত নিকেতন গুণীজন সম্বর্ধনা-২০২৩
সামাজিক / সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমঃ
ক্রমিক নং সংস্থার নাম ও ঠিকানা কোন দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকিলে পদের নাম ও সময়কাল বিশেষ কৃতিত্ব (যদি থাকে)
১. ছায়ানট সংস্কৃতি অংগন ১৯৬৬ সাল থেকে ছাত্রী ও পরবর্তীতে সিনিয়র নজরুল শিক্ষিকা হিসেবে অদ্যাবধি সংযুক্ত ছাত্রী হিসেবে ৮ বছরের কোর্স সমাপান্তে ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান অধিকারী
২. বাংলাদেশ নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ কেন্দ্রীয় পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট
৩. সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন “সেতুবন্ধ” সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
৪. নজরুল ইনস্টিটিউট সিনিয়র নজরুল সংগীত প্রশিক্ষক
৫.

রাজশাহী

বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী

বহিরাগত বিশেষজ্ঞ হিসেবে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন
৬. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৩ চূড়ান্ত পর্বের বিচারকের দায়িত্ব পালন
৭. বাংলাদেশ নজরুল সংগীত সংস্থা নজরুল উৎসব ২০২৩ উপলক্ষে শিল্পীর গান প্রকাশিত
৮. সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা নজরুল সংগীত শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে বিচারকের দায়িত্ব পালন
৯. ইস্পাহানি মির্জাপুর, ঢাকা ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ “বাংলায় জাগো ভরপুর-২০২৩” প্রতিযোগিতায় সম্মানিত বিচারকের দায়িত্ব পালন
১০. বাংলাদেশ টেলিভিশন সঙ্গীত শিল্পী নির্বাচনী পরীক্ষা-2023
১১. বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৩ এর চূড়ান্ত পর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন
১২. বাংলাদেশ নজরুল সংগীত সংস্থা নজরুল উৎসব-২০২৩ উপলক্ষে প্রকাশিত ১২৫ জন শিল্পীর গানের অ্যালবাম এ অংশগ্রহণ
১৩. সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৩ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন

দেশের বাহিরের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ / কর্মকান্ড :

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী সাইক্লোন ও সামুদ্রিক জলোচ্ছাসে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দেশের প্রথিতযশা শিল্পীদের সাথে আবুধাবীতে “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ সাইক্লোন ডিজাস্টার রিলিফ” শিরোনামে শাহীন অংশ নেয়। এই কনসার্টের অডিও ক্যাসেট বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবি প্রকাশ করে যেখানে শিল্পীর বাংলা, উর্দু, হিন্দি ও পাঞ্জাবি গান স্থান পায় যার মধ্যে দাদরা, গজল, ভোজন, গীত ও ফোক ছিল। মধ্য প্রাচ্য ভিত্তিক খ্যাতিসম্পন্ন পত্রিকাসমূহ – গালফ নিউজ, এমিরেটস নিউজ, খালিজ টাইমস সহ আরো বেশ কয়েকটি পত্রিকাতে এই বিষয়ে নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। একই উদ্দেশ্যে বাহরাইন এর গ্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিল্পী অংশ নেন যা গালফ ডেইলি নিউজ -এ একটানা প্রকাশিত হয়।১৯৮৯ সালে শিল্পী লন্ডনে গজল, ভোজন ও গীত পরিবেশন করেন। ভারতীয় বিদ্যা ভবন, কমনওয়েলথ ইনস্টিটিউট ও রয়েল ফেস্টিভ্যাল হলে লাইভ কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন। তিনি ইনার লন্ডন এডুকেশন অথরিটি’র অধীনে ০৫ বছর সংগীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ মুক্তিসংগ্রাম শিল্পী সংস্থার শিল্পীরা ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের আমন্ত্রনে হাইকমিশন চত্বরে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় শিল্পীদের সাথে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেয়।